প্রকাশ: ০৬:০০:০০ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
জেডে না থেকে ক্যাটাগরি পরিবর্তন করবে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ জেডে না থেকে অবশ্যই ক্যাটাগরি পরিবর্তন করবে। তাছাড়া এখানে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ তিন বছর পর ১০ গুণ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান।

সম্প্রতি এক বেসরকারী টেলিভিশনের শেয়ারবাজার বিষয়ক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহমুদুল হাসান বলেন, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের প্রবৃদ্ধি এবং অগ্রগতি আগের চাইতে অনেক ভালো এবং কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে না থেকে অবশ্যই ক্যাটেগরি পরিবর্তন করবে। শুধু তাই নয় আজকে একজন বিনিয়োগকারী সুহৃদ কোম্পানিতে যে দরে বিনিয়োগ করবে সেটি তিন বছর পর ১০ গুণ হয়ে যাবে। কারণ আমাদের বর্তমান টার্নওভার বছরে ২০ থেকে ২৫ কোটির মতো। এটি ২০১৯ সালের মধ্যে ১০০ কোটি অতিক্রম করে যাবে। পাশাপাশি ২০২০ সালের মধ্যে এটি ২০০ কোটি অতিক্রম করবে।

সুহৃদ চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান ম্যানেজমেন্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেছে গত বছরের অক্টোবর মাসে। এরপর তৃতীয় প্রান্তিকে আমরা মুনাফা করেছি এবং প্রথম দুই প্রান্তিকে যে ক্ষতি হয়েছিল সেটি কাটিয়ে উঠে মুনাফা করতে পেরেছি। এর চাইতেও ভালো প্রবৃদ্ধি বর্তমানে আমাদের রয়েছে। আমাদের অ্যাকাউন্টস অডিট হচ্ছে। আর এটি সম্পূর্ণ হলেই আমরা ডিভিডেন্ড ঘোষণার বোর্ড মিটিংয়ের তারিখ ঘোষণা করব।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের পণ্যসমূহ হচ্ছে পিভিসি ফিল্ম যেটি ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলের প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন পণ্য যেমন, ওয়ান টাইম ইউজ গ্লাস, কাপ ইত্যাদি। এটিকে গ্রিন ফ্যাক্টরি বা পরিবেশবান্ধব করার পরিকল্পনা করছি এবং এটি বাংলাদেশের প্রথম শিল্প-কারখানা যেখানে থ্রি-ফেইজ প্রিপেইড মিটার লাগানো হবে। আমাদের প্রিপেইড মিটার লাগানোর ব্যাপারে হাইকোর্টের একটি রুল রয়েছে যেটি আমাদের পক্ষে এবং সেটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে কিন্তু এটির তথ্য কোথাও যায়নি। অথচ এ তথ্যটি আমরা চিঠি দিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়ে দিয়েছি কিন্তু তারা প্রকাশ করেনি। এছাড়া আমরা চীন থেকে ইতোমধ্যেই প্রিপেইড মিটার নিয়ে এসেছি।

সবশেষে তিনি আরও বলেন, গত ২৪ তারিখে এনআরবি ব্যাংকের সঙ্গে ঋণ সমন্বয়ের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগে যে ম্যানেজমেন্ট ছিল তারা ২৬ লাখ শেয়ার এনআরবি ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করে দিচ্ছে। আর এনআরবি ব্যাংক ৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার ঋণ সমন্বয় করে দিচ্ছে। কাজেই সামনে সুহৃদের সুদিন ফিরে আসবে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৫২ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ সাত কোটি ৯০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট পাঁচ কোটি ২১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে বাকি ৯০ দশমিক শূন্য এক শতাংশ শেয়ার। আর ৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরে কোনো লভ্যাংশ না দিলেও সর্বশেষ ২০১৪ সালে ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল।