প্রকাশ: ১০:০৯:০০ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৮
যে কারণে গুজবের কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি

শেয়ারবাজারে এখন লভ্যাংশ মৌসুম চলছে। এরই মধ্যে অনেক কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা করছে কর্তৃপক্ষ। 

এসব বোর্ড সভায় কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা করা হবে, কিন্তু এতে উত্তাপ নেই বিনিয়োগকারীদের। তারা লভ্যাংশ থেকে ডিভিডেন্ড গেইন করার চেয়ে শেয়ার বিক্রি করে ক্যাপিটাল গেইন করতে চান। সে কারণে ‘জেড’ এবং স্বল্পমূলধনি কোম্পানির শেয়ার নিয়েই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি।

বিনিয়োকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বর্তমানে যারা বিনিয়োগ করছেন তাদের বেশিরভাগ খবরভিত্তিক বিনিয়োগ। কোন কোম্পানির শেয়ারদর কত দিনের মধ্যে কত টাকা বাড়বে-এমন খবর নিয়ে তারা বিনিয়োগ করছেন। বাছবিচার করছেন না মৌলভিত্তির। তাদের উদ্দেশ্য দ্রুত মুনাফা ঘরে তোলা। তাই তারা চালচুলাহীন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতেও দ্বিধাবোধ করছেন না।

হেলাল হোসেন নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, এ বছর আমি যেসব কোম্পানি থেকে সন্তোষজনক মুনাফা করেছি তার সব স্বল্পমূলধনি কি ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানি। বিডি অটোকারস, লিগ্যাছি ফুটওয়ার, মুন্নু স্ট্যাফলার্স ও মুন্নু সিরামিক থেকে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছেন বলে জানান তিনি। লভ্যাংশের আশায় বসে থাকলে এ ধরনের মুনাফা করতে পারতেন না বলে মনে করেন সেই বিনিয়োগকারী।

এদিকে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যারা এ ধরনের বিনিয়োগ করেন তাদের লাভের চেয়ে ঝুঁকির পরিমাণ বেশি থাকে। যারা লাভবান হয়েছেন তারা হয়তো সাময়িকভাবে লাভ করেছেন, কিন্তু যিনি বেশি দরে শেয়ারটি কিনে রেখেছেন একসময় তাকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে। কারণ একসময় এই শেয়ার যে দরে থাকা উচিত সেই দরে ফিরে আসবে।

এ প্রসঙ্গে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, বিনিয়োগকারীদের বারবার ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করার কথা বললেও তারা বেশিরভাগ সময়ই লোভে পড়ে বিনিয়োগ করেন। আর যখন লোকসানে পড়েন তখন দোষ চাপাতে চান অন্য কারও ঘাড়ে। তাদের এই মনোভাব ত্যাগ করা উচিত। তিনি বলেন, ভালো কোম্পানি থেকে লভ্যাংশের মাধ্যমে সামান্য মুনাফা করাও ভালো। ভালো প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কোনো কারণে কমে গেলেও এখানে ঝুঁকি কম।

এ প্রসঙ্গে মিডওয়ে সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারে যে পতন চলছে তা অস্বাভাবিক। এর বিশেষ কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না। বিনিয়োগকারীদের মনোগত কারণেই এমন হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন বাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বিনিয়োগের অনুকূলে রয়েছে। এখান থেকে দেখেশুনে ভালো মানের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে ভালো রিটার্ন আশা করা যায়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ৮৬৩ পয়েন্ট। গত বছরের শেষ দিন সূচকের অবস্থান ছিল ছয় হাজার ২৪৪ পয়েন্টে। গতকাল যার অবস্থান দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৩৮১ পয়েন্টে। একই সময়ের ব্যবধানে লেনদেন নেমে এসেছে ৬২৮ কোটি টাকা থেকে ৪৭৬ কোটি টাকায়। আর এই সময়ের বাজার মূলধন কমে গেছে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা।