প্রকাশ: ০৭:১২:০০ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৮
মুমিনুল-মুশফিকে রঙিন দিন কাটাল বাংলাদেশ

সকালে এক পাশলা উইকেট বৃষ্টি। এরপর রানের ফোয়ারা। দিনের শুরুতে যে ‘কালো মেঘ’ ভয় লাগিয়েছিল তা দূর হল একটু একটু করে।

দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রখর হলো সূর্যের তেজ। তেজদীপ্ত সূর্যের উত্তাপে জ্বললেন দুই কান্ডারি মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক। তাদের হাত ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ল বাংলাদেশের রান। তাতেই ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিল স্বাগতিকরা। সিলেটে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩১২ রান করা দলটা ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনই তুলল ৩০৩ রান। সেটাও ৫ উইকেট হারিয়ে!

মঞ্চ কিংবা ফরম্যাট কিছুরই পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন হয়েছে মানসিকতার। সিলেট টেস্টে ব্যাটসম্যানদের যে মানসিকতা ছিল, ঢাকায় তা ভুলিয়ে দিলেন মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক। দুজনই পেয়েছেন সেঞ্চুরি। দুজনই ছুঁয়েছেন ল্যান্ডমার্ক। হয়েছে রেকর্ড রানের জুটি।

বিকেল গড়িয়ে গোধূলির লগ্নে এসে উত্তাপহীন কোমল সূর্যের আলোয় মুমিনুল আউট না হলেও রঙিন হয়ে থাকত দিনটি। তবুও শেষ আট ইনিংসে যে দলটা দুইশত পেরুতে পারেনি তারা নবম ইনিংসে এক দিনেই তুলল ৩০৩ রান। সেটাও কম কিসের?

তবে শুরুটা ছিল বরাবরের মতো ভয়ানক। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ২৬ রান তুলতেই নেই ৩ উইকেট। ২৮ বলের ব্যবধানে ৩ ব্যাটসম্যান সাজঘরে। দুই ওপেনার লিটন ও ইমরুলের সঙ্গী নবাগত মিথুন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৮৮ ম্যাচ খেলে টেস্ট ক্যাপ পাওয়া মিথুন নিজের প্রথম ইনিংসেই করলেন শূন্য। আউট হয়েছেন দৃষ্টিকটু শটে। তিরিপানোর অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল খোঁচা মেরে ক্যাচ দেন দ্বিতীয় স্লিপে। এর আগে লিটন ও ইমরুলকে ফেরান জারভিস। ইমরুল ১৬ বলে খেলে রানের খাতা না খুলেই ফেরেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। শরীরের ওপরে আসা বলে ব্যাট সরাতে পারেননি ইমরুল। ৩৫ বলে ৯ রান করা লিটন আউট হয়েছেন মাভুতাকে ক্যাচ প্র্যাকটিস করিয়ে!

চতুর্থ উইকেটে হাল ধরেন দুই কান্ডারি মুশফিক ও মুমিনুল। প্রথম সেশনে লড়াই করলেন। বাকি দুই সেশনে করলেন শাসন। ২২ গজে কোনো বোলারকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেননি। ৫৬ রানে প্রথম সেশন শেষ করে পরের দুই সেশনে ব্যাটিং করেছেন স্বাচ্ছন্দে। দ্বিতীয় নতুন বল নিয়ে মুমিনুলকে আউট করে জুটি ভাঙেন চাতারা। ২৬৬ রানের জুটি চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। রেকর্ড রানের জুটি গড়ার পথে প্রথমে সেঞ্চুরি পেয়েছেন মুমিনুল। তার ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ টেস্টে সেঞ্চুরির হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে।

মুমিনুলের পথ ধরে হাঁটেন মুশফিকও। প্রাক্তন অধিনায়ক তুলে নেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। মুমিনুল পড়ন্ত বিকেলে সাজঘরের পথ দেখলেও মুশফিক ফিরেছেন মাথা উঁচিয়ে, অপরাজিত থেকে। চাতারার বলে পয়েন্টে চারির ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে মুমিনুল করেন ১৬১ রান। ২৪৭ বলে ১৯ বাউন্ডারিতে সাজান ইনিংসটি। আর মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছে ১১১ রান। ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান খেলেছেন ২৩১ বল। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা তাইজুল ভালো করতে পারেননি। জারভিসের বলে ফেরেন ৪ রানে। ক্রিজে এসে কোনো বল না খেলেই মুশফিকের সঙ্গে দিন শেষ করেন মাহমুদউল্লাহ।

এর আগে সকালে নতুন বলে আগুন ঝরিয়েছেন জিম্বাবুয়ের তিন পেসার। প্রথম সেশনে ৩ পেসার মিলে করেন ২৩ ওভার। নতুন বলে শুরু করা জারভিস ও চাতারা করেন ১৮ ওভার। দলে ফেরা তিরিপানো করেছেন ৫ ওভার। জারভিস ২টি এবং তিরিপানো ১ উইকেট পেলেও চাতারা ছিলেন ভয়ংকর। ৯ ওভারে ৭ মেডেনে মাত্র ৯ রান খরচ করেন ডানহাতি পেসার। ওই এক সেশনেই রাজত্ব করে জিম্বাবুয়ে। বাকিটা বাংলাদেশের। তবে শেষ সেশনে আবার নতুন বলে ২ উইকেট তুলে লড়াই করেছে সফরকারীরাও। তবে শেষ হাসিটা হেসেছে স্বাগতিকরা। সাদা পোশাকে দীর্ঘদিন পর রঙিন দিন পার করল টিম বাংলাদেশ।