প্রকাশ: ০৬:৫৩:০০ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৮
বিশ্বরেকর্ডের পর সাকিবকে ছাড়ালেন মুশফিক

প্রথম উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন মুশফিকুর রহিম। পাশাপাশি বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়েছেন। পাশাপাশি তামিম ইকবালের পর দেশের মাটিতে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন তিনি।

৪০০ বলে পৌঁছে গিয়েছিলেন ১৯৯ রানে। ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে ছিলেন মুশফিক। পরের ৬ বল ডট। মাভুতার পঞ্চম বল সুইপ করেছিলেন ঠিকমতোই। কিন্তু শর্ট লেগে বল আটকে গেল। অপেক্ষায় রইলেন মুশফিক। সেটাও অবশ্য বেশিক্ষণের জন্য নয়।

সিকান্দার রাজার শর্ট বল স্কয়ার লেগে পাঠিয়ে প্রান্ত বদল করলেন। তাতেই ইতিহাস। ৪০৭ বলে মুশফিক পৌঁছলেন ডাবল সেঞ্চুরিতে। দুই হাত মেলে দৌড়ালেন অনেকদূর। হাতের থেকে পড়ে গেল ব্যাট। গ্লাভস খুলে আঁকলেন ভালোবাসার চিহ্ন। উদযাপন তখনও থামেনি। সিজদাহ করে সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করলেন। ড্রেসিং রুমের বাইরে তখন পুরো দল। হাতে তালি দিয়ে মুশফিককের অর্জনকে নিয়ে যাচ্ছিলেন চূড়ায়। আর মিরপুরের গ্যালারিতে তখন একটাই নাম, মুশফিক-মুশফিক-মুশফিক।

মুশফিকের এটি দ্বিতীয়, বাংলাদেশের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি। ২০১৩ সালে মুশফিক প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির এলিট ক্লাবে ঢুকেছিলেন। ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম করেছিলেন ২০৬ রান। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সাকিবের ব্যাট থেকে ২১৭ রান। আজ মুশফিক করলেন ২১৯ রান।
 
উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি আছে আট ক্রিকেটারের। মুশফিক একমাত্র ক্রিকেটার যার নামের পাশে রয়েছে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি। শীর্ষে উঠতে মুশফিক পেছনে ফেলেছেন কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেন্দ্র সিং ধোনি ও অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের মতো তারকা খেলোয়াড়দের।

ডাবল সেঞ্চুরির সুবাদে রেকর্ড বুক ওলট-পালট করেছেন মুশফিক। সময়ের দিক থেকে বাংলাদেশের দীর্ঘতম ইনিংস খেলেছেন। বলের হিসেবেও দীর্ঘতম ইনিংসের রেকর্ড গড়েছেন। ২০০০ সালে অভিষেক টেস্টে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ৫৩৫ মিনিট ক্রিজে ছিলেন। মুশফিক দুদিন মিলিয়ে ২২ গজে এখন পর্যন্ত পার করেছেন ৫৮৯ মিনিট। বলের হিসেবে মোহাম্মদ আশরাফুল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে খেলেছিলেন ৪১৭ বল। 

জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশের মধ্যকার মুখোমুখি লড়াইয়ে ডাবল সেঞ্চুরি ছিল না কোনো ব্যাটসম্যানের। আজ মুশফিক খুললেন নতুন ক্লাব। এর আগে ১৭১ রান করেছিলেন ব্রেন্ডন টেলর।
 
মিরপুর শের-ই-বাংলায় সবার আগে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন শিবনারায়ন চন্দরপল। ২০৩ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে মাহেলা জয়াবর্ধনে করেছিলেন ২০৩ রান। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের আজহার আলী করেন সর্বোচ্চ ২২৬ রান। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে মিরপুর শের-ই-বাংলায় ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড করলেন মুশফিকুর রহিম।

১১১ রান নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছিলেন মুশফিক। সোমবার দিনের শুরু থেকেই ছিলেন স্বাচ্ছন্দে। ব্যাটিং করছিলেন হেসে খেলে। তবে রান তুলছিলেন মন্থর গতিতে। ১৮৭ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। আর ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে খেলেন আরও ২২০ বল। মাহমুদউল্লাহ যখন ৫২২ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন তখন মুশফিকের নামের পাশে রান ২১৯। ৪২১ বলে ১৮ চার ও ১ ছক্কায় ঝলমলে তার রান, তার বিরোচিত ইনিংস।

অসাধারণ, অনবদ্য মুশফিক। নিজেকে নিয়ে গেলেন নতুন উচ্চতায়। তার আলোয় আরেকবার জ্বলল বাংলাদেশ।