প্রকাশ: ০৭:০১:০০ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৮
‘পিঠা নিয়েই টানাটানি হয়, আসন নিয়েতো হবেই’

গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘পিঠা ভাগাভাগি নিয়েইতো টানাটানি লাগে। আর আসন ভাগাভাগি নিয়ে যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় টানাটানিতো লাগবেই।’

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘সিট ভাগাভাগি নিয়ে টানাটানি লাগবেই কারণ ভাগ করা মানে কেউ পাবে কেউ পাবে না। সুতরাং যে পাবে না সে তো চেষ্টা করবে তার পক্ষে লবিং করতে, বিভিন্ন লোককে দিয়ে তার পক্ষে তদবির করাতে, এটা স্বাভাবিক।’

তিনি বলেন, ‘আসন ভাগাভাগির জন্য আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাজ করছেন। এটা কঠিন কাজ। আলোচনা কিছুটা শুরু হয়েছে, আরও আলোচনার প্রয়োজন আছে। আওয়ামী লীগ গতকাল মনোনয়ন দিয়েছে, বিএনপি আজকে দিচ্ছে, আমরা কালকের মধ্যে দিতে পারব। না হলে পরশুর মধ্যে নিশ্চিত পাবেন। কাজগুলো কঠিন তারপরও আমরা ইতিবাচক।’

আসন ভাগাভাগি নিয়ে ঐক্যফ্রন্টে কোনো ঝামেলা আছে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান ড. কামাল।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মালিক জনগণ। জনগণকে নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। আর জনগণকে যদি কেউ ভোট দিতে বাধা দেয় তাহলে এটা হবে স্বাধীনতাবিরোধী কাজ। যারা মনোনয়ন পাচ্ছেন তারা সবাই সৎ ও নির্ভিক। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ গরিব হতে পারে কিন্তু তারা বোকা নয়। তাই জনগণকেই নিজেদের অধিকার নিজেদের ফিরিয়ে নিতে হবে।’

ভোট কারচুপি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘ভোট কারচুপির আশঙ্কা তো সব দেশে সব নির্বাচনেই হয়। আমাদের এখানেও আশঙ্কা রয়েছে। অর্থ, অস্ত্র, ক্ষমতার মধ্য দিয়ে কেউ কিছু চাইলেই তো হবে না, আমরা ঐক্যের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে। ভোট দেয়ার প্রক্রিয়ায় কেউ বাধা দিলে সেটা হবে স্বাধীনতাবিরোধী কাজ। প্রয়োজনে আমাদের জনগণকেই ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। তবে নিজের ভোট পাহারা দেয়াটা গৃহযুদ্ধ নয়।’

‘ড. কামাল গৃহযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন’ সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের বিষয়ে ড. কামাল বলেন, ‘যিনি এ কথাটি বলেছেন উনি কি বুঝে বলেছেন নিজেই জানেন। কারণ আমি কর্মী সমর্থককে বলেছিলাম ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে। এটাকে কীভাবে উনি গৃহযুদ্ধ বললেন উনাকেই জিজ্ঞেস করুন।’

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়া ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘যেসব নীতি ও আদর্শকে ভিত্তি করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, আমাদের বর্তমান সংগ্রাম সেসব নীতি-আদর্শ পুনর্বহালের। এ সরকার যেভাবে দেশ চালিয়েছে, তাতে আমার মনে হয় কিছু ভুল আছে। আগামীর বাংলাদেশে আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে। প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে, বিশেষ করে বঞ্চিত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার দৃঢ় প্রত্যয় আমাদের।’