প্রকাশ: ১১:৫৬:০০ এএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৮
দেখুন রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে মেয়েদের কিভাবে হিজরা বানানো হয়…! (ভিডিও)

সোহেল রানা। বাড়ি বগুড়া জেলা। তেমন লেখাপড়ার সুযোগ না পাওয়ায় চাকুরির জন্য ১৯৯৯ সালে বগুড়া ছেড়ে পাড়ি জমান ঢাকা শহরে। কাজ নেন একটি গার্মেন্টস কারখানায়। সেখান থেকে অপর এক মেয়ে সহকর্মীর সঙ্গে প্রেম, তারপর বিয়ে।বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় সোহেল রানার ঘর আলো করে আস

বন্ধুত্বের সম্পর্ক একটু গভীর হলে হিজড়ারা সোহেলকে প্রস্তাব দেয় হিজড়াদের গ্রুপে যোগ দেয়ার। প্রলোভন দেখায় বাড়তি আয় ও সচ্ছল জীবনের। কিন্তু সাড়া দেয়নি সোহেল।একদিন হঠাৎ হিজড়ারা সোহেলকে বলে, আমাদের গুরুমা অসুস্থ। তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। চলো দেখে আসি। তাদের কথামতো সোহেল তাদের সঙ্গে দেখতে যায় গুরুমাকে।

গুরুমাকে দেখে ফেরার আগে হিজড়াদের কয়েকজন সোহেলকে বলেন, তোমার তো শরীর দুর্বল। কিছু ভিটামিন ও স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা নিতে শরীর ভালো হয়ে যাবে। রাজী হয় সোহেল। তার কোমরে পুশ করা হয় একটি ইনজেকশন। তারপর আর কিছু মনে নেই সোহেলের।

এরপর জ্ঞান ফিরলে সে দেখে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে। সোহেলের কথা মতো এ কাজটি করা হয়েছিলো খুলনাতে। তাকে অস্ত্রোপচারে অংশ নেয়া ডাক্তার ও হাসপাতালের নামও উল্লেখ করেন সোহেল।

এরপর সোহেলের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। পরিবার থেকে হয় বিতাড়িত। হিজড়া সমাজে তার নতুন নাম হয় নদী। স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায় অন্যত্র। তবে হিজড়া সমাজের বিভিন্ন ধরণের অসংগতি তাকে কখনও আকর্ষণ করেনি।

বারবার সে চলে আসতে চেয়েছে এ জীবন থেকে। বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে, চেয়েছে ন্যায় বিচার। কিন্তু এর কিছুই পাইনি সোহেল। এখনও সে তার নিষ্পাপ শিশুকে নিয়ে বাঁচতে চাই। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।

হিজড়াদের প্রতি ক্ষোভ থেকে সময় ডট নিউজের কাছে নিজের হিজড়া সমাজের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয় তুলে ধরে সে। তার মতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক পুরুষকে হিজড়া করা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে নিয়ে গিয়েও করা হচ্ছে এ ধরণের কাজ।

সর্বশেষ সময়.নিউজের কাছে সোহেল রানা ওরফে নদী হিজড়ার আকুতি। তারা বাবা-মেয়ে দুবেলা খেয়ে পরে বাঁচতে চায়। কাজ চায়। বাঁচার জন্য যেকোন ধরণের কাজ করতে প্রস্তুত সে। সে চায় ন্যায় বিচার। এছাড়াও সময় নিউজের কাছে হিজড়া সমাজের বিভিন্ন গোপন বিষয় তুলে ধরেন তিনি।