প্রকাশ: ০৫:৫১:০০ পিএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮
গর্ভের শিশুর পেটে আরও একটি শিশু!

সদ্যোজাত শিশুর ওজন স্বাভাবিকের চাইতে একটু বেশি মনে হচ্ছিল। ডাক্তারদের সন্দেহ সদ্যোজাত শিশুর ওজন এত বেশি কেন? ভালো করে পরীক্ষা করে চিকিত্‍সকরা দেখলেন সেই শিশুটির পেটে আরো একটা বাচ্চা! শিশুর শরীর থেকে প্রয়োজনীয় খাবার নিয়ে দিব্যি বেড়ে উঠেছিল এই বাচ্চ

অস্ত্রোপচারের পর মায়ের পেট থেকে বের করে দেখা যায় দুটি শিশুই মৃত। ডাক্তারি পরিভাষায় এই ঘটনাকে বলে, ‘ফিটাস ইন ফিটো’ অর্থাৎ মায়ের পেটে জন্ম নেয় যমজ ভ্রূণ। তবে দুটি পাশাপাশি নয় একটির মাঝে আরেকটি। একটি ভ্রূণ স্বাভাবিক পরিপূর্ণ থাকলেও অন্যটি কার্যত প্যারাসাইট হয়ে যায়। অ্যাম্বিলিকাল কর্ডের মধ্যে দিয়ে তা ঢুকে পড়ে পরিপূর্ণ ভ্রূণটির মধ্যে। সেখান থেকেই খাবার সংগ্রহ করে। ওই প্রসূতির যখন অস্ত্রোপচার হয় তখনো চিকিত্সকরা জানতেন না পেটে ভ্রূণের মধ্যে আরো একটি ভ্রূণ ঢুকে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফিটাস ইন ফিটো মূলত জন্মগত ত্রুটি। অর্থাৎ একটি ফিটাস (হোস্ট ফিটাস),অন্য একটি ফিটাস (প্যারাসাইটিক ফিটাস)-এর ওপর জড়িয়ে বাড়তে থাকে। আর এর জন্যই আমরা অনেক সময় দেখতে পাই একটা শরীরে ৪টা পা, দুইটা মাথা, পেটের মধ্যে থেকে পা, ঘাড়ের পাশে পেট এই ধরনের বাচ্চার জন্ম হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এমন আজব ঘটনার পরেও শিশুটির মা সুস্থই রয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য ওই শিশুর মায়ের পরিচয় গোপন রেখেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই নারী। তার বাড়ি নদিয়া জেলাতেই।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরো জানান, ‘ওই প্রসূতির পেট থেকে সিজার করে প্রথমে একটি মৃত শিশুকে বের করে আনা হয়। তখনও জানা ছিল না সেই শিশুটির পেটে আরেকটি শিশু রয়েছে। আলট্রাসোনোগ্রাফি করানোর পর ওই মৃত শিশুর পেটে আর একটি শিশুর অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। দেখা যায় সেটিও মৃত।‘'

এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। পাঁচ লক্ষে একজন প্রসূতির মধ্যে হয়। অ্যান্টি মাদাম আল্ট্রাসাউন্ড প্রক্রিয়ায় মাধ্যমেই একমাত্র শিশুর পেটের মধ্যে এই ভ্রূণের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। এমন ক্ষেত্রে দুটি শিশুর কোনোটিই সাধারণত বাঁচে না। কারণ, দ্বিতীয় শিশুটির দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয় না। শরীরের অঙ্গ ঠিকমত বৃদ্ধি পায় না। শিশুটির মাথা পর্যন্ত অনেকক্ষেত্রেই তৈরি হয় না।