ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩


কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ

সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ | ১১:৪৭:২১ pm

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সোলায়মান মিয়ার বিরুদ্ধে তার স্ত্রী নুশরাত জাহান টুম্পা (৩০) হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
 
সোমবার সন্ধ্যায় উত্তরা থানার পুলিশ টুম্পার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
 
নিহত গৃহবধূ টুম্পা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক কোনাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামের মেয়ে।
 
সোলায়মান মিয়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি স্ত্রী, সন্তান নিয়ে ঢাকার উত্তরার ৭নং সেক্টরের ৪ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাসায় কয়েক বছর ধরে বসবাস করেন।
 
নিহত টুম্পার বাবা মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রায় ১২ বছর আগে কাশিমপুরের ভবানীপুর এলাকার হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে সোলায়মান মিয়ার সঙ্গে টুম্পার বিয়ে হয়। বিয়ের পাঁচ বছর পর থেকে বিভিন্ন সময় টুম্পাকে নির্যাতন করত সোলায়মান। এছাড়া সোলায়মান মিয়ার মাদকের নেশা ও নারীসংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যে ঝগড়াঝাটি হতো।
 
রোববার বিকেলে সোলায়মান, টুম্পা, টুম্পার ভাই সাঈদ ও তার স্ত্রীসহ বসুন্ধরা এলাকায় বেড়াতে যান। এ সময় তাদের সন্তান নাফি (৮) উত্তরাতে তার নানা নজরুল ইসলামের বাসায় ছিল। বসুন্ধরা এলাকা থেকে যমুনা ফিউচার পার্কে যাওয়ার সময় গাড়িতে সোলায়মান মিয়ার মোবাইলে অন্য একটি মেয়ের ছবি দেখতে পেয়ে স্বামীর সঙ্গে টুম্পার ঝগড়া ও কথাকাটাকাটি হয়।
 
এরই একপর্যায়ে রাতে সোলায়মান ও টুম্পাকে তাদের বাসায় নামিয়ে দিয়ে সাইদ তার স্ত্রীকে নিয়ে চলে যায়। পরে রাতে কোনো এক সময় টুম্পাকে নির্যাতন করে হত্যার পর সোলায়মান বাসার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে গৃহকর্মী বাসায় দরজা বন্ধ দেখে টুম্পার মাকে মোবাইলে ফোন করে। খবর পেয়ে তারা ওই বাসায় এসে জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে খাটের ওপর টুম্পার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
 
তিনি জানান, পরে তাকে উদ্ধার করে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক টুম্পাকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় উত্তরা থানার পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
 
ঘটনার পর থেকে স্বামী কাউন্সিলর সোলায়মান পলাতক এবং নিহতের টুম্পার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন।
 
এ ব্যাপারে কাউন্সিলর সোলায়মান মিয়ার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
 
ঢাকা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই শাহেদ পারভেজ জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালচে দাগ রয়েছে। ঘটনাটি হত্যা কিনা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে জানা যাবে।

বাংলারকণ্ঠ ডটকম/ঢাকা/২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/এস আই/জে এইচ