ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩


যে দুই সুযোগ নিয়ে কাশ্মীরে সেনাঘাঁটিতে হামলা

মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ | ১২:৪১:০৬ am

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরি সেনা ব্রিগেডের সদর দপ্তরে দুটি সুযোগ নিয়ে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।
 
এর মধ্যে একটি হলো ব্রিগেড সদর দপ্তর নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে অবস্থিত। দ্বিতীয়টি হলো- সদর দপ্তরটির তারকাঁটার প্রাচীরের একটি অংশ কাটা ছিল।
 
এই দুই সুযোগ গ্রহণ করে চার সন্ত্রাসী রোববার ভোরে সেনাঘাঁটিতে প্রবেশ করে অতর্কিতে হামলা চালায়। নিহত হন ১৭ ভারতীয় সেনা। পুলিশের প্রতিরোধের মুখে নিহত হয় হামলায় অংশ নেওয়া চার সন্ত্রাসী। 
 
ব্রিগেড সদর দপ্তরে প্রাণঘাতী হামলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুনর্মূল্যায়ন বৈঠকে বিষয় দুটি উঠে আসে।
 
পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলার পর সেনাঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও অনুপ্রবেশকারী সন্ত্রাসীদের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয় উরি সেনাঘাঁটি। সেনাঘাঁটির সতর্ককরণ ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল বলে উল্লেখ করা হয় বৈঠকে।
 
ভারতের ধারণা, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জাইশ-ই মোহাম্মদ (জেইএম) উরি সেনা ব্রিগেড সদর দপ্তর অর্থাৎ সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তাদের আত্মঘাতী জঙ্গিরা হামলায় অংশ নেয়। পাঠানকোট হামলায়ও তারা ছিল বলে দাবি করে ভারত।
 
রাজনাথ সিং পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ আখ্যায়িত করে বলেন, তারা জম্মু ও কাশ্মীরে উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। এ নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে রয়েছে।
 
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছে, উরিতে হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে জেইএমকে চিহ্নিত করেছে তারা। তাদের অনুসারী জঙ্গিরা সেনাঘাঁটিতে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে- কাশ্মীরের এক সাংবাদিকের সঙ্গে জেইএমের একজন এ কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় গোয়েন্দারা। তবে জেইএম সরাসরি এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
 
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, হামলাকারী সন্ত্রাসীরা আগে থেকে উরি সেনাঘাঁটি সম্পর্কে জানত। সেনাঘাঁটির ম্যাপ সম্পর্কে জেনে পরে ঘাঁটির প্রাচীরের কাঁটাতার কেটে অনুপ্রবেশ করে সন্ত্রাসীরা। অনুপ্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল।
 
এদিকে লাইন অব কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) ও একে কেন্দ্র করে সীমান্ত অঞ্চলে সেনাঘাঁটির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। 

বাংলারকণ্ঠ ডটকম/ঢাকা/২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/এস আই/জে এইচ