ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩


ভৌতিক ৫ সত্য ঘটনা

মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ | ১২:৫৫:২৬ am

আসলে মানুষের মূত্যুর পরে কী ঘটে? মূত্যুর পরেও কী মৃতরা আমাদের মাঝে তাদের অস্তিত্ব বজায় রাখে? অথবা যখন আমরা তাদের উপস্থিতি অনুভব করি তখন কী আমরা হ্যালুসিনেশন এ ভুগি?
 
ভৌতিক আত্মার অস্তিত্ব সবসময় একটি বড় প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে আছে আমাদের কাছে। বিশ্বাসীদের মতে, শুধু যখন আমাদের চারপাশে কোনোকিছু থাকে তখনই আমরা কিছু জানতে পারি এবং অবিশ্বাসীরা বিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যার ওপরই তাদের আস্থা অব্যাহত রেখেছেন।
 
যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা প্রেতাত্মা বিশেষজ্ঞ দম্পত্তি অ্যাড ওয়ারেন এবং লোরেন ওয়ারেন, যারা ভৌতিক ঘটনার তদন্ত করেন এবং ভৌতিক আত্মা রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন। অ্যাড একজন স্বশিক্ষিত ভৌতক বিদ্যাধারী এবং তার স্ত্রী লোরেন আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনকারী। তারা দুজন মিলে অনেক ঘটনার সমাধান করেছেন, যেখানে ভূতগ্রস্ততার চিন্তা জীবন্ত মানুষকে অনেক পীড়া দিত।
 
এ কাজের দরুন এই দম্পতি ক্রমাগত কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হলেও, তারা কখনোই তাদের অনুশীলন অব্যাহত রাখতে পিছপা হননি। যুক্তরাষ্টের কানেকটিকাট রাজ্যে তাদের বাড়ির মধ্যে বর্তমানে ‘মিউজিয়াম অব দ্য অকাল্ট’ নামক অতিপ্রাকৃত বিষয়ক একটি জাদুঘর রয়েছে, যেখানে এই দম্পতি পৈশাচিক ভূতগ্রস্ততার ঘটনাগুলো সমাধান করে পাওয়া ট্রফি এবং অন্যান্য পণ্য যেমন ডাইনী পুতুল, প্রেতাত্মা বেদি ইত্যাদি সংরক্ষণ করেছেন।

অ্যাড ওয়ারেন ২০০৬ সালে মারা গেছেন তবে তার স্ত্রী লোরেন ওয়ারেন জীবিত রয়েছেন। এবং ৮১ বছর বয়সে এখনো ভৌতিক বিষয়ে কাজ করে চলেছেন লোরেন।
 
এ প্রতিবেদনে অ্যাড ও লোরেন দ্বারা তদন্ত করা বাস্তব জীবনের ৫টি শরীর ছমছম করা ঘটনা তুলে ধরা হলো।
 
১. নেকড়ে বাঘে পরিণত মানুষ
লল্ডনের উইলিয়াম রামসে প্রথম তার ভৌতিক শক্তি প্রদর্শিন করেন যখন তার বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর। তিনি তার চারপাশে থাকা মানুষদের পাকড়াও করতেন এবং তারপর দাঁত দিয়ে কামড়ে দিতেন। ১৯৮৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন যখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তার এই হামলে পড়ার ক্ষুধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালেও তিনি বিভিন্ন নার্সদের ওপর আক্রমণ করেন এবং তিনি পশুর মতো গর্জন করতেন।
 
তার এই নেকড়ে বাঘে পরিণত হওয়ার আচরণ ১৯৮৭ সালে তাকে একজন পুলিশ অফিসারের ওপর আক্রমণে ধাবিত করে। তার এই পশুর-মতো শক্তি অপ্রতিম ছিল এবং তাকে সামলাতে ৬ পুলিশ কর্মকর্তা লেগেছিল। অ্যাড এবং লোরেন এই ঘটনা সম্পর্কে শুনেছিলেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন। তারা তার ওপর ঝাড়ফুঁক করে ওই ভৌতিক নেকড়ে আত্মা তার শরীর থেকে দূর করেছিলেন।
 
২. ‘শয়তান আমাকে দিয়ে এটা করায়’
১৯৮১ সালে কানেকটিকাট রাজ্যের অ্যালান বোনো নামক এক বাড়িওয়ালা তার ভাড়াটিয়ার ১১ বছর বয়সী বালক আর্নি শাইয়েন জনসন কর্তৃক খুন হোন। আর্নির বোন ডেবির হবু বড় ছিলেন বোনো। এই হত্যাকান্ডের কয়েকমাস আগে ডেবির ছোট ভাই জনসন অদ্ভুত আচরণ শুরু করেছিলেন এবং তার অবিশ্বাস্য পরিমান রাগ পরিবারের সদস্যদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। তার পরিবার এ ব্যাপারে সাহায্য এবং কারণ অনুসন্ধানের জন্য অ্যাড এবং লোরেন ওয়ারেন দম্পত্তিকে ডাকেন। তারা তখন দেখতে পায় যে, বালকটির শরীরে ৪৩টি ভূতের আশ্রয়স্থল ছিল।
 
ঝাড়ফুঁকের সময়, জনসন ভূতদের তার শরীরে প্রবেশ অনুভূব করেছিলেন। বিপদজনক কিছু ঘটতে পারে ওয়ারেন দম্পত্তি বুঝতে পেরেছিলেন এবং পরবর্তীতে জনসনের পরিবারের সদস্যদের সতর্কও করেছিলেন কিন্তু ততক্ষণে খুব দেরি হয়ে গিয়েছিল। হত্যাকান্ডের পর, জনসন দাবি করে যে, ভূতগ্রস্থতা তাকে বোনোকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করার পথে চালিত করেছিল। কানেকটিকাট রাজ্যের ব্রুকফিল্ড শহরের ইতিহাসে এটি প্রথম খুন ছিল।
 
৩. আ্যনাবেল
এটা ১৯৭০ সালের ঘটনা যখন একজন মহিলা তার মেয়ের জন্য একটি একটি প্রাচীণ পুতুল কিনে এনেছিলেন। কিছুদিন পরেই পুতুলটি অদ্ভুত আচরণ শুরু করে। এটি বাড়ির এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নড়তে শুরু করে। অর্থাৎ কোনো একটি স্থানে পুতুলটিকে রাখা হলে পরবর্তীতে দেখা যায় সেটি অন্য স্থানে। একটি আধ্যাত্মিক মাধ্যমে দেখা যায় যে, পুতুলটি একটি মৃত মেয়ের আত্মা দ্বারা অধ্যুষিত ছিল।
 
পুতুলটির এমন আচরণের প্রেক্ষিতে ওয়ারেন দম্পতিকে ডাকা হয়। তারা উপলব্ধি করেন যে, পুতুলটিকে বাইরে রাখাটা খুবই বিপজ্জনক হবে এবং তখন এটিকে একটি বক্সে আটকে রাখেন। এটি এখন তাদের জাদুঘরে রয়েছে।
 
এই ঘটনাটি অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যখন এই ঘটনাটির ওপর ভিত্তি করে অ্যানাবেল নামের একটি চলচ্চিত্র ২০১৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল।
 
৪. ভূতের সঙ্গে বসবাসরত স্মুর্ল পরিবার
১৯৭৪ সালে পেনসিলভানিয়া রাজ্যের স্মুর্ল পরিবার তাদের বাড়িতে একটি অদৃশ্য আশ্রিত শক্তির অস্তিত্ব অনুভব করতেন। তারা বাড়িতে চলন্ত কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করেছিলেন এবং এটি সবসময় নোংরা গন্ধ ছড়াতো। এমনকি তাদের কন্যা একটি অদৃশ্য শক্তির দ্বারা সিঁড়ি থেকে নিচে পড়ে গিয়েছিলেন। পরিবারটি তাদের চারপাশে অনুসরণরত ভূত অনুভব করছিলেন এবং তারা ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এরকম চারপাশে ভূত বন্দির মতো বসবাস করে আসছিলেন। অ্যাড এবং লোরেন ওয়ারেন যখন ঘরে পরীক্ষা চালান, তারা ৪টি দুষ্ট আত্মার উপস্থিতি অনুভব করেন। তীব্র মন্ত্র প্রয়োগের পর তারা ঘরটিকে ভূতগ্রস্থ মুক্ত ঘোষণা করতে পেরেছিলেন এবং পরিবারটি রক্ষা পায়।
 
৫. গা ছমছমে পরিস্থিতিতে পেরন পরিবার
এটা ছিল ১৯৭০ দশকের ঘটনা যখন রোড আইল্যান্ড রাজ্যের পেরন পরিবার কিছুটা শান্তি ও শান্ত পরিবেশের জন্য গ্রামের দিকে একটি বাড়ি কিনেছিলেন। এর অল্প কিছুদিন পরে, পরিবারটি বাড়িতে কিছু অদ্ভুত ঘটনা লক্ষ্য করেন কিন্তু সেগুলো তাদের চোখ কপালে উঠার মতো যথেষ্ট ভীতিকর ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে ভৌতিক ব্যাপার স্যাপার বাড়তে থাকে, তারা অবলোকন করতে থাকেন যে, তাদের দরজায় কে যেন ক্রমাগত ঠুং ঠুং শব্দ করছে, আসবাবপত্র ক্রমাগত প্রায়ই সরে যাচ্ছে এবং বাচ্চারা রহস্যময় দুর্ঘটনায় আঘাত পাচ্ছে।
 
এই ঘটনায় পরিবারটি ভয় পেয়ে যায় এবং তারা সাহায্যের জন্য এই দম্পতিকে ডাকার সিদ্ধান্ত নেয়। ওয়ারেন দম্পত্তি জায়গাটি তদন্ত করে কিন্তু সর্বস্বান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে তাদের অনেক দূর যেতে হয়েছিল। পরিবারটিকে তাদের জীবন রক্ষা করতে জায়গাটি খালি করতে হয়েছিল।
 
২০১৩ সালে নির্মিত ফিল্ম কনজুরিং এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছিল কিন্তু বাস্তব জীবনে এর পরিসমাপ্তি অনেক ভীতিকর ছিল। এমনকি ওয়ারেন দম্পত্তিও ওই বাড়িতে অনেক ভৌতিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন।

বাংলারকণ্ঠ ডটকম/ঢাকা/২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/এস আই/জে এইচ