ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩


মেয়ে মরল আমার, চাপ দেয় আমাদের : তনুর মা

মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ | ০৮:৪৮:২৫ pm

‘মেয়ে মরল আমার, অথচ উল্টো আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছে সিআইডি।’

কুমিল্লা পূবালী চত্বরে মঙ্গলবার ‘তনু হত্যার ছয় মাস! বাউল পদযাত্রা ও প্রতিবাদী সমাবেশে’ তনুর মা আনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি তনু হত্যার বিচার চান।

সিআইডির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, সিআইডির মামলা তদন্তের কোনো মতবল নাই।  হত্যার ছয় মাস পূর্ণ হলেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি সিআইডি।

তিনি বলেন, মেয়ে মরল আমার, অথচ কেবল আমাদের চাপ দেয় হত্যার ঘটনা নিয়ে।  আমরা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলছি না।  বিচার পেলে মনটা সান্ত্বনা পেত।  দেশবাসীও খুশি হতো।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীরও মেয়ে আছে।  তিনি আমার দরদ বুঝবেন।  আমি তার কাছে বিচার চাই।
তনুর মামলা যিনি তদন্ত করতেন, এখন তাকে বাদ দিয়ে নতুন করে জালাল উদ্দীন নামে একজনকে তদন্ত করতে দেয়া হয়েছে।  

আনোয়ারা বেগম বলেন, তিনি এ পর্যন্ত আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি।  শুধু একবার সেনানিবাসে গিয়েছেন তনুকে ফেলে রাখার জায়গা দেখতে।

গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার অন্যতম সংগঠক খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ছয় মাস পূর্ণ হলেও মামলার কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।  দুই দফা লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা হয়নি।

তিনি বলেন, তনুর মা কয়েকজন সন্দেহভাজনের নাম এর আগে সিআইডি ও গণমাধ্যমকে বলেছেন।  আজ পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনের সঙ্গে তনুর পোশাকে পাওয়া ডিএনএ নমুনা মেলানো হয়নি।  সিআইডির তদন্ত সবাইকে ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে।

সমাবেশে তনু হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে পূবালী চত্বরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন গণজাগরণ মঞ্চ, অচিন পাখি, বাউল শিল্পীরা একসাথে জমায়েত হন।  তারা গানে গানে তুলে ধরেন তনু হারানোর বেদনা।

চলতি বছরের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।  পরদিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্ত শেষে মুরাদনগর উপজেলার মীর্জাপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরে আদালতের নির্দেশে ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হয়।  দুই দফায় তদন্তকারী কর্মকর্তা/সংস্থা পরিবর্তন শেষে ৩১ মার্চ মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

তনু হত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এবং সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বিচারের আশ্বাস দেয়া হলেও সিআইডি এখনো মামলার রহস্যের জট খুলতে পারেনি।  সিআইডির শেষ ভরসা তনুর ডিএনএ প্রতিবেদন।

 

বাংলারকণ্ঠ ডটকম/ঢাকা/২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/এ এইচ/এস আই