প্রকাশ: ০৮:১১:০০ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৯
কেন শেষ ওভারটা আরিফুলকে দিলেন রিয়াদ?

মরা গাঙ্গে হঠাৎ বান ডেকেছে, জমে উঠতে শুরু করেছে বিপিএল। আগের দিন ঢাকা ডায়নামাইটস আর রংপুর রাইডার্সের আকর্ষণীয় ও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর আজ খুলনা টাইটান্স ও চিটাগাং ভাইকিংসের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ম্যাচ টাই। সুপার ওভারে ম্যাচ নিষ্পত্তি। সেখানে শেষ হাসি মুশফি

অন্যদিকের জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও ছুঁতে না পারার বেদনায় নীল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটান্স শিবির। সুপার ওভারে গিয়ে হারার আগে নির্ধারিত ২০ ওভারেই জয়ের সুবর্ণ সুযোগ ছিল খুলনার সামনে। কিন্তু পেসার আরিফুল শেষ ওভারে তিন ছক্কা হজম করলে সে সুযোগ হাতছাড়া হয়।


শেষ ওভারে চিটাগাং ভাইকিংসের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৯ রানের। কিন্তু খুলনা পেসার আরিফুল ঐ ওভারে তিন ছক্কা হজম করে বসেন। যার দুটি হাঁকান চিটাগাংয়ের দক্ষিণ আফ্রিকান রিক্রুট ফ্রাইলিংক।

ঐ ওভারের প্রথম বলে স্ট্রাইকে ছিলেন চিটাগাং ভাইকিংসের নাঈম হাসান। সপাটে চালিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাটে বলে হয়নি। ডট বল। দ্বিতীয় বল নাঈম তুলে মারলেন, লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা।

তৃতীয় বল নাঈম আবারও তুলে মারলেন, বল আকাশে ভেসে ওয়াইড ডিপ মিডউইকেটে গেলে নাজমুল হোসেন শান্ত ক্যাচ ধরে ফেললেন। চতুর্থ বলে স্ট্রাইক পেয়ে সোজা ছক্কা হাঁকালেন ফ্রাইলিংক। পঞ্চম বলে স্কোয়ার লেগ দিয়ে আরেক ছক্কা।

শেষ বল অফস্টাম্পের ঠিক বাইরে। ব্যাটসম্যান ফ্রাইলিংক ব্যাটে বলে করতে পারেননি। প্রান্ত বদলের জন্য দৌঁড় দিয়েও পারেননি। উইকেটকিপার অঙ্কন বল ধরে বোলিং প্রান্তে ছুঁড়ে দিলে অধিনায়ক রিয়াদ তা ধরে বেলস তুলে নেন। দু দলের রান সমান বা ম্যাচ ‘টাই’ হয়ে যায়।

টাই ম্যাচের ফল নিষ্পত্তির জন্য খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। খুলনার পাকিস্তানি পেসার জুনায়েদ খানের করা সেই ওভার থেকে চিটাগাংয়ের ডেলপোর্ট (৬) ও ফ্রাইলিংক তুলে নেন ১১ রান। আর তারপর চিটাগাংয়ের হয়ে বল করা ফ্রাইলিংকের ওভার থেকে খুলনার ব্রাথ্রওয়েট, ডেভিড মালান আর স্টারলিং ১০ রানের বেশি নিতে পারেননি।

শেষ বলে দুই রান দরকার পড়লেও স্ট্রাইকে থাকা স্টারলিং ডাবলস নেয়া বহুদূরে, ব্যাটে বলই করতে পারেননি। সেই না পারার খেসারত এবারের আসরে পর পর টানা চার হার। একমাত্র দল হিসেবে এখনো জয়ের নাগাল না পাওয়া খুলনা টাইটান্স শিবির পুড়ছে হতাশায়। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও আশা ভঙ্গের বেদনায় দগ্ধ।

খেলা শেষে প্রেসের সাথে কথোপকথন ও শরীরি অভিব্যক্তিই বলে দিল এমন ম্যাচ হাতছাড়া করায় রীতিমত হতাশ খুলনা টাইটান্স অধিনায়ক। কিন্তু শেরে বাংলার গ্যালারি, গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড আর প্রেস বক্স অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর প্রতি যতটা সহানুভূতিশীল, তার চেয়ে বেশি সমালোচনামুখর।

সবার একটাই প্রশ্ন, রিয়াদ তো অনেক বড় বড় ম্যাচে ‘ডেড’ ওভারে বল করেন। বিপিএলের এক আসরে একাধিক ম্যাচের শেষ ওভার বল করে দল জেতানোরও রেকর্ড আছে। গত আসরের আগের বার দুই ম্যাচে রিয়াদের শেষ ওভারের বোলিং জাদুতে জয়ের রেকর্ড আছে খুলনার।

এই তো কয়েক মাস আগের কথা, জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নির্ধারণী শেষ ওভারেও রিয়াদের হাতেই বল তুলে দিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। অথচ আজ শেরে বাংলায় সেই রিয়াদ কেন নিজে শেষ ওভার বল না করে অকেশনাল জেন্টল মিডিয়াম পেস বোলার আরিফুলের হাতে বল তুলে দিলেন?

সবার মুখে সেই প্রশ্নই ঘোরপাক খাচ্ছে। প্রেস কনফারেন্সেও উঠল সে প্রশ্ন। উত্তরে রিয়াদ খানিক রক্ষণাত্মক, ‘আমার মনে হয় তখন অফস্পিন বোলিং দিয়ে সফল হওয়া বেশ কঠিন ছিল। আর আরিফুল যেহেতু ইয়র্কার ছুঁড়তে পারে, তাই তাকে দেয়া। আমার বিশ্বাস ও আস্থা ছিল তার ওপর।’

কারো ওপর দোষ না চাপিয়ে রিয়াদ বলে ওঠেন, ‘আসলে আমরা জেতার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছি। প্রথমতঃ আমরা শেষ ওভারে ১৯ রানকে ডিফেন্ড করতে পারিনি। আর তারপর সুপার ওভারে ১২ রান করাও সম্ভব হয়নি। সুপার ওভারে যে টার্গেট ছিল, সেটা মোটেই কঠিন ছিল না।’

পর পর চার ম্যাচ হেরে যাওয়ায় হতাশ রিয়াদ অবশ্য মনে করতে চান না, সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। তবে তার ধারণা, মূল লড়াইয়ে ফেরা এখন বেশ কঠিন।

কারণ সেরা চারে থাকতে সামনের আট খেলায় অন্তত পাঁচ থেকে ছয় ম্যাচ জিততেই হবে। যা বেশ কঠিন হবে। তাই সামনের ম্যাচ গুলোয় জিততে মরিয়া হতে চান না রিয়াদ। খুলনা অধিনায়কের ভাষায়, ‘সামনের খেলাগুলোয় জয়ের চাপ নিয়ে খেললে সেটা হবে আরও কঠিন। তার চেয়ে আমি চাই ম্যাচ টু ম্যাচ ভাবতে।’

তবে রিয়াদের আক্ষেপ, তার দলকে মাঠে যেমন অনুজ্জ্বল ও নিষ্প্রভ দেখা যাচ্ছে বাস্তবে তারা তত খারাপ দল না। তাই আফসোস মাখা মন্তব্য, ‘আসলে আমরা যা খেলছি, তার চেয়ে বেটার দল। ’

মূল ভাবটা এমন, শুধু জায়গামতই পারফরমেন্সটা হচ্ছে না!