প্রকাশ: ০৭:০১:০০ পিএম, ২৫ মার্চ ২০১৯
বিএসইসিকে বয়কট করল সাংবাদিকরা

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) বয়কট করেছে সাংবাদিকরা। বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অসৌজন্যমূলক আচরনের কারনে সাংবাদিকরা এই বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার (২৫ মার্চ) আগারগাঁওয়ে বিএসইসির নিজস্ব ভবনের মাল্টিপারপাস হলে দুপুর ১২টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শেষে এই বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়- শেয়ার কারসাজির অভিযোগে বিভিন্ন সময় বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের জরিমানা করে। কিন্তু যাকে জরিমানা করা হয় তিনি কারসাজির মাধ্যমে ৫-১০ কোটি টাকা মুনাফা করেন। এর বিপরীতে বিএসইসি ৫-১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। এ ধরণের পদক্ষেপ নিয়ে কারসাজি কি বন্ধ করা সম্ভব?

এই প্রশ্নের উত্তরে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিএসইসির প্রতিনিধি বলেন, জরিমনা বা শাস্তির বিষয়টি কমিশনের বিষয়। যদি কমিশন মনে করে জরিমানা করবে তাহলে করতে পারে। আর যদি মনেকরে ক্রিমিনাল অ্যাকশন নিবে নিতে পারে।

এরপর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়- আপনারা তদন্তটা ঠিকমত করছেন কি? আমাদের কাছে তথ্য আসে কারসাজির মাধ্যমে একজন ৫-১০ কোটি টাকা মুনাফা করে নিয়ে যাচ্ছে। এর বিপরীতে বিএসইসি তাকে ৫-১০ লাখ টাকা জরিমানা করে।

এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বিএসইসির প্রতিনিধি ক্ষেপে গিয়ে বলেন, আপনার কাছ থেকে আমাদের তদন্ত শেখার কিছু নেই। আমাকে মেন্ডেড দেয়া হয়েছে তদন্ত করার, আমি তদন্ত করেছি। আপনার কাছ থেকে আমাকে শিখতে হবে আমি কি তদন্ত করেছি। আমাকে যে মেন্ডেড দেয়া হয়েছে, সেটা শিখতে দেন। যতটুকু তথ্য প্রমাণ হাজির হবে তার ভিত্তিতে কমিশন ব্যবস্থা নেবে। আপনি বলতে পারেন না কমিশন বসে আছে।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে বসে থাকা বিএসইসির আরেক প্রতিনিধি বলেন, অনেক সময় আমাদের পক্ষে শতভাগ তথ্য বের করে আনা সম্ভব হয় না। আমাদের কিছু লিমিটেশন আছে। এ লিমিটেশন হলো প্রমাণের ঘাটতি। তদন্ত কর্মকর্তা যদি সঠিকভাবে তথ্য প্রমাণ নিয়ে না আসতে পারে অথবা যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি যদি শুনানিতে তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করে তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে পারে তাহলে শাস্তি কমে যাবে।

এর প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়- আপনারা স্বীকার করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা সঠিকভাবে তদন্ত না করলে শাস্তি সেভাবে হয় না। আবার আপনারা আইনের সীমবদ্ধতার কথা বলছেন। ১৯৯৬, ২০১০ আমরা দেখে এসেছি। আইনের সীমাবদ্ধতা দুর করার ক্ষেত্রে আপনারা কি ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছেন?

এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বিএসইসির প্রতিনিধি সংবাদ সম্মেলন স্থল থেকে উঠে যান। এ সময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়- বিএসইসিতে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারেন না। অনেক সময় এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা বসে থেকে সাংবাদিকদের চলে যেতে হয়।

এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বিএসইসির প্রতিনিধ আরও ক্ষেপে যান এবং সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চ থেকে নেমে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। বিএসইসির প্রতিনিধির এমন আচরণের কারণে উপস্থিত সাংবাদিকরা বিএসইসির প্রোগ্রাম বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয়।